দেশে বিদেশে আপনার পণ্য বিক্রি করতে চান? সাহায্য করবে অ্যামাজন লঞ্চপ্যাড

স্টার্টআপ বা প্রারম্ভিক ব্যবসার সাফল্যের ক্ষেত্রে সবসময়েই একটা বড় চ্যালেঞ্জ হল সঠিক ক্রেতার কাছে পৌঁছনো এবং বাজার ধরা। উন্নতমানের পণ্য, অভিনব ভাবনা, আধুনিকতম প্রযুক্তি, আকর্ষণীয় দাম ইত্যাদি সব কিছুর পরও নিজেদের পণ্যকে বাজারে প্রতিষ্ঠিত করতে হামেশাই নাজেহাল হতে হয় শুরুয়াতি ব্যবসায়ীরা।

খামতি থেকে যায় পণ্যের বিজ্ঞাপন ও মার্কেটিংয়ে। তাই বাজারে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পৌঁছনো যায় না সঠিক ক্রেতার কাছে। স্টার্টআপদের এই সমস্ত সমস্যার সমাধান করে অ্যামাজন লঞ্চপ্যাড (Amazon Launchpad)। প্রারম্ভিক ব্যবসার জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহজেই নিজেদের পণ্য বিক্রির সুবিধা পান শুরুয়াতি ব্যবসায়ীরা।

দেশে বিদেশে আপনার পণ্য বিক্রি করতে চান? সাহায্য করবে অ্যামাজন লঞ্চপ্যাড

২০১৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম শুরু হয় অ্যামাজন লঞ্চপ্যাড প্রোগ্রাম। সেখানে সাফল্যের পর ধীরে ধীরে অন্যান্য দেশেও একই প্রোগ্রাম শুরু করে অ্যামাজন, সাড়া মেলে স্টার্টআপ এবং ক্রেতা উভয়পক্ষ থেকেই।

বর্তমানে,  ভারত, আমেরিকা, কানাডা, মেক্সিকো, ফ্রান্স, জার্মানি, ইউ কে, ইতালি ও স্পেনে চালু রয়েছে এই প্রোগ্রাম। বিশ্বজুড়ে ২,১০০ এর বেশি স্টার্টআপ সংস্থা নথিভুক্ত হয়েছে এই প্রোগ্রামে, রয়েছে ১৯,০০০ এর বেশি পণ্য। ৮৫টির বেশি স্টার্টআপ এই প্রোগ্রামে নথিভুক্তির পর, ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের থেকে বেশি ব্যবসা করেছে।    

শুরু করবেন কী ভাবে?

অ্যামাজনের মাধ্যমে আপনার পণ্য বিক্রি করতে চাইলে প্রথমে আপনাকে একটি ফর্ম পূরণ করতে হবে। ফর্মটি পেতে পারেন এখানে ক্লিক করে।

আপনি যদি ইতিমধ্যেই অ্যামাজনে আপনার পণ্য বিক্রি না করে থাকেন তাহলে প্রথম প্রশ্নটির উত্তরে নো পছন্দ করুন। এরপর আবেদন পত্রটি পূরণ করুন।

আপনার যোগাযোগ ও ঠিকানা, আপনার সংস্থার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এবং যে পণ্য বিক্রি করতে চান তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে হবে আবেদনের ফর্মে। আপনার পণ্য শিপমেন্টের জন্য তৈরি কি না তাও জানতে চাওয়া হবে এই ফর্মে, জানতে চাওয়া হবে আপনি এই পণ্যের পেটেন্টের অধিকারী কি না।

জানাতে হবে আপনার সংস্থার জন্য কত টাকা আপনি সংগ্রহ করেছেন এবং তার উৎস। আপনার সংস্থার কর্মীদের মধ্যে কারও অ্যামাজনের সঙ্গে কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে কি না এবং আপনিই আপনার অ্যাকাউন্টটি পরিচালনা করতে চান কি না ইত্যাদি নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এই ফর্মে।

আপনি কোন দেশে আপনার পণ্য বিক্রি করেন, কোন জায়গায় পণ্য তৈরি করেন এবং রাখেন, আপনা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত তথ্য এবং কোন দেশে আপনি এই পণ্য বিক্রি করতে চান, ফর্ম পূরণের সময়েই দিতে হবে এই সমস্ত তথ্য।

আপনার সংস্থা কোনও পুরস্কার পেয়ে থাকলে জানাতে পারবেন সেই তথ্যও। সম্পূর্ণ ফর্মটি পূরণ করতে সময় লাগবে মিনিট কুড়ি। আবেদন দাখিল করার পর অ্যামাজন আপনার আবেদন পত্রটি বিবেচনা করবে এবং ১৫ দিনের মধ্যে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবে।

কারা আবেদন করতে পারে অ্যামাজন লঞ্চপ্যাডে?

বস্তুতঃ যেসব স্টার্টআপ কোম্পানির বিক্রি করার জন্য তৈরি পণ্য প্রস্তুত রয়েছে যা তারা তখনই বা তিরিশ দিনের মধ্যে শিপ করতে পারবে তারা সকলেই আবেদন করতে পারে।

প্রাথমিকভাবে, অ্যামাজনের নেটওয়ার্ক পার্টনার সংস্থা, ক্রাউডফান্ডিং (crowdfunding) প্ল্যাটফর্ম, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল (venture capital) সংস্থা, ও স্টার্টআপ এক্সেলারেটর (startup accelerator)  দ্বারা সমর্থিত কোম্পানিগুলিকেই অন্তর্ভুক্তর জন্য বিবেচনা করে লঞ্চপ্যাড।

তবে আপনার কোম্পানিতে যদি কোনও সংস্থার বিনিয়োগ না থাকে বা তা যদি এমন সংস্থা দ্বারা সমর্থিত হয় যা অ্যামাজনের নেটওয়ার্কের বাইরে তাহলেও আপনি আবেদন করতে পারেন।

সেক্ষেত্রে আপনার নির্দিষ্ট আবেদনটির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে অ্যামাজন। অ্যামাজনের পার্টনার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন।

বর্তমানে এই তালিকায় রয়েছে ১০১ টি সংস্থা। আপনি যদি ইতিমধ্যেই অ্যামাজনে আপনার পণ্য বিক্রি করে থাকেন তাহলেও প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্তির জন্য এই ফর্মের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন আপনি। আপনার আবেদন মঞ্জুর হলে অ্যামাজনের পক্ষ থেকে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবে।

দেশে বিদেশে আপনার পণ্য বিক্রি করতে চান? সাহায্য করবে অ্যামাজন লঞ্চপ্যাড

অ্যামাজনে পণ্য বিক্রির সুবিধা

অ্যামজনের মাধ্যমে, প্রচুর টাকা খরচ না করেই আপনি খুব সহজে পৌঁছে যেতে পারেন লক্ষ লক্ষ ক্রেতার কাছে। আপনি যদি বিদেশে আপনার পণ্য বিক্রি করতে চান, পাবেন সেই সুযোগও। পণ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজও করবে অ্যামাজনই।

বৃহত্ অংশের ক্রেতাদের মধ্যে অ্যামজনের বিশ্বাসযোগ্যতা থাকায় সহজেই ক্রেতাদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া সম্ভব হবে। মার্কেটিং থেকে সরবরাহর সব দায়িত্বই নেবে অ্যামাজন, আপনি মন দিতে পারবেন পণ্য উদ্ভাবনে।

অন্যান্য অ্যামাজন বিক্রেতাদের থেকে কী কী বাড়তি সুবিধা পান লঞ্চপ্যাডে অংশগ্রহণকারীরা?

স্টার্টআপদের নির্দিষ্ট চাহিদার কথা মাথায় রেখে লঞ্চপ্যাডের বিক্রেতাদের পণ্যের মার্কেটিংয়ের জন্য বিশেষ সুবিধা দেয় অ্যামাজন। তাদের নতুন পণ্যকে ক্রেতার কাছে তুলে ধরা ও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য বড় মাপের ছবি ও ভিডিও আপলোডের সুবিধা রয়েছে লঞ্চপ্যাডে, রয়েছে নিজের পছন্দ মতো পণ্য বিবরণের পাতাটি সাজানোর সুযোগ।

পণ্যটি ও আপনার গল্প যাতে সহজেই ক্রেতার কাছে পৌঁছে যায় সেই ব্যবস্থা করে অ্যামাজন লঞ্চপ্যাড। নিশ্চিত করে হাজারো প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের মাঝে যাতে আপনার পণ্যটি হারিয়ে না যায়, আর ক্রেতা যাতে সহজেই দেখতে পান আপনার পণ্য। পণ্যের মার্কেটিং কৌশল, উন্নতির সুযোগ ইত্যাদি নানা বিষয়ে সাহায্য পাওয়া যায় অ্যামাজনের থেকে।

অ্যামাজন লঞ্চপ্যাডের মাধ্যমে বিক্রির পদ্ধতি

আপনার আবেদন মঞ্জুর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আপনি অ্যামজনের সেলার সেন্ট্রালে নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। আপনার নথিভুক্তিকরণ যাচাইয়ের পর অ্যামাজনের কর্মীরা সাহায্য করবে পণ্য তালিকায় আপনার পণ্যের নাম তুলতে।

দেশে বিদেশে আপনার পণ্য বিক্রি করতে চান? সাহায্য করবে অ্যামাজন লঞ্চপ্যাড

এরপর আপনাকে আপনার পণ্য নিয়ে পৌঁছে যেতে হবে অ্যামাজন ফুলফিলমেন্ট সেন্টারে। ফুলফিলমেন্ট সেন্টারে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার পর আপনাকে পণ্যের বিবরণ, ছবি, ভিডিও আপলোড করে দিতে হবে নির্দিষ্ট পাতায়। রাখতে পারবেন আপনার স্বতন্ত্র গল্পটিও। এরপর, লঞ্চপ্যাডের চুক্তিতে সই করতে হবে এবং অনলাইনে দিতে হবে লঞ্চপ্যাডে অন্তর্ভুক্তির খরচ।

লঞ্চপ্যাডে পণ্য অন্তর্ভুক্তির খরচ

লঞ্চপ্যাডে অন্তর্ভুক্তির জন্য মাসিক ৫,০০০ টাকা দিতে হয় স্টার্টআপ সংস্থাগুলিকে। এছাড়া রয়েছে পণ্যের জন্য নির্দিষ্ট অন্যান্য খরচ যা পণ্যের ধরণ, পণ্য সরবরাহের স্থান ইত্যাদি নানা বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। এই খরচগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

আপনাকে প্রাথমিকভাবে ছ’মাসের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে হবে। অর্থাত ছ’মাসের টাকা আপনাকে দিতেই হবে। ছ’মাসের পর আপনি আপনার অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারেন।

দেশে বিদেশে আপনার পণ্য বিক্রি করতে চান? সাহায্য করবে অ্যামাজন লঞ্চপ্যাড

শর্তাবলী পূরণ হলে বিক্রি করতে পারবেন বিদেশেও

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে রয়েছে অ্যামাজনের বাজার। অ্যামাজন লঞ্চপ্যাডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আপনিও পৌঁছে যেতে পারেন সেই বাজারে। নির্দিষ্ট নিয়মাবলী অনুসারে ও অ্যামাজনের শর্তাবলী পূরণ হলে অ্যামাজন আপনার পণ্যকে বিদেশের ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।

স্টার্টআপদের জন্য অ্যামাজনের এই প্রোগ্রাম অত্যন্ত কার্যকরী বলে মনে করেন অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীরা। এর মাধ্যমে খুব সহজেই দেশ বিদেশের ক্রেতাদের কাছে নিজেদের পণ্য পৌঁছে দিতে পারছেন তাঁরা।

ভারতে গত দুবছর ধরে চলছে এই প্রোগ্রাম, মিলেছে অভূতপূর্ব সাড়া। স্টার্টআপগুলি ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত করতে ও নতুন নতুন বাজার ধরতে বেছে নিচ্ছে এই প্রোগ্রাম। ভবিষ্যতের অর্থনীতিতে স্টার্টআপ একটা বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে অ্যামাজন কর্তৃপক্ষ, আর তাই সেই স্টার্টআপদের ব্যবসা তৈরিতে সাহায্য করার জন্যই তাদের এই প্রোগ্রাম।

ফিচার্ড ইমেজ ক্রেডিট : Photo by Christian WiedigerUnsplash

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *