ফটোগ্রাফির ব্যবসা শুরুর কথা ভাবছেন? জেনে নিন ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ

ডিজিটাল ফটোগ্রাফি আসার সঙ্গে সঙ্গে ফটোগ্রাফি বা ছবি তোলার ব্যবসায় এক আমূল পরিবর্তন এসেছে। প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও সরঞ্জামের পরিবর্তন যেমন এসেছে, পরিবর্তন এসেছে চাহিদাতেও, বদলেছে বাজার।

এই ব্যবসা শুরু করার প্রাথমিক শর্ত ছবি তোলার দক্ষতা, সঠিক মুহূর্তে সঠিক ছবিটি লেন্সবন্দি করার ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস।

এছাড়াও প্রয়োজন ক্যামেরা, লেন্স, ট্রাইপড সহ প্রাথমিক সরঞ্জাম। ভারতে ২ লক্ষ টাকা বা তার থেকেও কম খরচে এই ব্যবসা শুরু করা সম্ভব

আসুন জেনে নিই আমাদের দেশে ফটোগ্রাফির ব্যবসা শুরু করার প্রাথমিক ধাপ গুলো কী কী।

#১ বেছে নিন আপনার ফটোগ্রাফির ক্ষেত্র

প্রথমেই ঠিক করে নিন কী ধরনের ছবি আপনি তুলতে চান। মানুষের ছবি, প্রকৃতির ছবি, ঘটনার ছবি, পণ্যের ছবি ইত্যাদি নানা ধরনের ছবি তোলার সুযোগ রয়েছে।

ছবি তোলার ব্যবসা মূলতঃ দুরকমের হতে পারে, অ্যাসাইনমেন্ট ফটোগ্রাফি ও স্টক ফটোগ্রাফি।

ফটোগ্রাফির ব্যবসা শুরুর কথা ভাবছেন? জেনে নিন ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ

অ্যাসাইনমেন্ট ফটোগ্রাফি

এক্ষেত্রে গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী আপনাকে ছবি তুলতে হবে। তা যেমন হতে পারে বিয়েবাড়ির ছবি, তেমনই হতে পারে বিজ্ঞাপনের ছবি বা কোনও অনুষ্ঠানের ছবি।

কাজ শুরুর আগেই বা ছবি ক্রেতার হাতে পৌঁছে দেওয়ার পর নির্দিষ্ট টাকা পাওয়া যায় এই কাজে। বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সংস্থা ও কর্পোরেট হাউজের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে নিয়মিত কাজ পাওয়া যেতে পারে।

এছাড়াও বিয়ের মরসুমে কাজ পাওয়া যায় প্রচুর। নিয়মিত ও ভাল আয়ের জন্য বেশিরভাগ ফটোগ্রাফারই এই ব্যবসাই বেশি পছন্দ করে।

স্টক ফটোগ্রাফি

অ্যাসাইনমেন্ট ফটোগ্রাফির পাশাপাশি অন্য যে ফটোগ্রাফির ব্যবসা আপনি করতে পারেন তা হল স্টক ফটোগ্রাফি। এক্ষেত্রে বিভিন্ন জিনিস বা ঘটনার ছবি তুলে তা ক্রেতার কাছে বেচতে হবে আপনাকে। খবরের কাগজের প্রতিবেদন, পত্রপত্রিকা, ক্যালেন্ডার, ওয়েবসাইট ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্টক ছবির প্রয়োজন হয়।

অনলাইনেও স্টক ফটো বিক্রির সুযোগ রয়েছে। নিম্নলিখিত সাইটগুলোর সাহায্যে আপনি অনলাইনে ছবি বিক্রি করতে পারেন।

#২ ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করুন

ফটোগ্রাফির ব্যবসা শুরু করার কথা যারা ভাবছেন তাঁদের বেশিরভাগই ইতিমধ্যেই ফটোগ্রাফির চর্চার মধ্যেই রয়েছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের কাছে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক সরঞ্জাম রয়েছে। যেমন ক্যামেরা, লেন্স, ট্রাইপড, আলো, ল্যাপটপ ও ফটো এডিটিং সফ্টওয়্যার, ও প্রয়োজন পড়লে স্টুডিও।

ফটোগ্রাফির ব্যবসা শুরুর কথা ভাবছেন? জেনে নিন ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ

প্রথমেই খুব দামি ক্যামেরা বা লেন্স না থাকলেও চলবে। আপনি যে ক্ষেত্রের ফটোগ্রাফি করতে চান তার জন্য প্রয়োজনীয় ক্যামেরা ও লেন্স থাকলেই শুরু করতে পারেন ব্যবসা। পরবর্তীতে ব্যবসা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন মতো পরিকাঠামোর উন্নতি করে নিতে পারেন।

কোথায় কম দামে উন্নতমানের সামগ্রী পাওয়া যায় সে বিষয়ে খোঁজ রাখুন। সামগ্রী বিক্রেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলুন, সুবিধা পাবেন অনেক। এই বিক্রেতারা অনেকেই নিজেদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ফলে সরঞ্জাম নির্বাচনে তাঁদের সাহায্য নিন। জেনে নিন আপনার প্রয়োজন ও সাধ্যের সঙ্গে সাযুয্যপূর্ণ সামগ্রী কোনটি।

#৩ ব্যবসার রেজিস্ট্রেশন করান

নিজের একার নামে ব্যবসা নথিভুক্ত করতে পারেন অথবা দুই বা তার বেশি হলে লিমিটেড লাইবেলিটি পার্টনারশিপ এ ব্যবসা করা সবথেকে সুবিধাজনক। সেক্ষেত্রে বছরে ৪০ লক্ষ টাকার বেশি টার্নওভার না হলে বা কোনও পার্টনারের একটি আর্থিক বছরে বিনিয়োগের পরিমাণ ২৫ লক্ষ টাকা না ছাড়ালে বার্ষিক অডিটের প্রয়োজন নেই।

এর পাশাপাশিই বাত্সরিক টার্নওভার ৯ লক্ষ টাকা ছাড়ালে করিয়ে নিতে হবে সার্ভিস ট্যাক্স রেজিস্ট্রেশনও। বছরের টার্নওভার ১০ লক্ষ ছাড়ালে ক্রেতার থেকে ১৪ শতাংশ হারে পরিষেবা কর নিতে হবে।

ব্যবসার রেজিস্ট্রেশনের সঙ্গে সঙ্গেই খোলা যাবে ব্যবসার ব্যাঙ্ক অ্যাকউন্ট বা ক্রেডিট অ্যাকাউন্ট। যেকোনও সরকারি বা বেসরকারি ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব।

#৪ অন্য ফটোগ্রাফারদের কাজ থেকে শিখুন

আপনি যে বিষয়ে ফটোগ্রাফি করতে চাইছেন সেই বিষয়ের অন্য ফটোগ্রাফারদের কাজ দেখুন। আপনার শহরে বা দেশের অন্যান্য জায়গায় যারা একই বিষয়ে কাজ করছেন তাঁরাই আপনার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক।

তাঁদের কাজ দেখুন, আপনার তোলা ছবিতে কোনও খামতি থাকছে কী না বোঝার চেষ্টা করুন এবং সেই মতো যত্নশীল হন। এর জন্য বেশ কিছুটা সময়ে আপনাকে দিতে হবে, হতে হবে মনযোগী ও ধৈর্য্যবান।

তাঁদের তোলা ছবি দেখার পাশাপাশি তাঁদের ব্যবসার কৌশলও বোঝার চেষ্টা করুন, অনুকরণ করবেন না বরং তাঁদের থেকে শিখে নিজের সৃজনীশক্তিকে ব্যবহার করে আপনার ব্যবসার পরিকল্পনা করুন।

#৫ ব্যবসা ও প্রচারের পরিকল্পনা করুন

প্রথমেই আপনার ব্যবসার বিস্তারিত পরিকল্পনা করে নিন। সময় ও অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিকল্পনাও বদলাবে নিশ্চিতভাবেই কিন্তু প্রাথমিকভাবে একটি পরিষ্কার পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।

কারা আপনার ক্রেতা হতে পারে, তাদের কাছে পৌঁছনোর উপায় ইত্যাদি বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা থাকলে কাজ করা অনেকটাই সহজ হবে, ব্যবসায় নেমে হাতড়াতে হবে না।

আপনার সাধ্য ও বাজারের চাহিদা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করুন। কার্যক্ষেত্রে পরিকল্পনায় ভুল আছে বুঝলে তা দ্রুত শুধরে নিন। পরিকল্পনার ক্ষেত্রে আপনার ন্যূনতম প্রয়োজনীয় আয়ের বিষয়টিকেও মাথায় রাখবেন।

এর পাশাপাশিই পরিকল্পনা করুন ব্যবসার প্রচারের। অনেক সময়েই ভাল কাজ করলে মুখে মুখে অনেকটা প্রচার হয়, এছাড়াও কাজ পাওয়ার জন্য প্রয়োজন হয় নেটওয়ার্কিং।

আরো পড়ুন: ঘরে বসে আয় করতে চান? জেনে নিন ভারতের সেরা ২৪টি ফ্রিল্যান্সিং সাইটের নাম

#৬ মূল্য নির্ধারণে যত্নবান হন

যেকোনও ব্যবসায় পরিষেবা ও পণ্যের মূল্য নির্ধারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। নতুন ফটোগ্রাফারদের দিয়ে অনেক ক্রেতাই কম টাকায় কাজ করিয়ে নিতে চায়, প্রথম থেকেই সে বিষয়ে সতর্ক হন।

বাজারের দর জেনে নিজের পারিশ্রমিক ঠিক করুন। কাজ পাওয়ার জন্য অন্যায্য টাকায় কাজ করতে রাজি না হওয়াই ভাল। দক্ষতা থাকলে উপযুক্ত পারিশ্রমিকেই কাজ পাবেন।

পাশাপাশিই মাথায় রাখতে হবে এমন দাম যাতে না হয় যাতে ক্রেতার পক্ষে তা কেনাই সম্ভব নয়। ফলে আপনার পরিশ্রমিক ঠিক কতটা হওয়া উচিত সে বিষয়ে খোঁজ নিয়ে তারপরই সিদ্ধান্ত নিন।

#৭ বিজনেস কার্ড ও প্রচার পুস্তিকা তৈরি করুন

ফটোগ্রাফির ব্যবসা শুরুর কথা ভাবছেন? জেনে নিন ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ

এই ব্যবসায় যেহেতু প্রচুর লোকের সঙ্গে নিয়মিত দেখা করতে হবে ও যোগাযোগ রাখতে হবে তাই একটি বিসনেস কার্ড থাকলে সুবিধা হবে। তবে প্রথমেই খুব বেশি খরচ করে দামি বিজনেস কার্ড না বানালেও চলবে। Vistaprint বা Printvenue বলে কিছু websites আছে যেখানে আপনি খুব কম টাকায় অনেক বিসনেস কার্ড করতে পারবেন I

ছিমছাম ডিজাইনের সমস্ত প্রয়োজনী তথ্য সহ বিজনেস কার্ড ছাপিয়ে নিলেই চলবে। পাশাপাশি কিছু প্রচার পুস্তিকা বা ব্রোশিওরও ছাপিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

#৮ ওয়েবসাইট বানিয়ে পৌঁছে যান আরও বেশি সংখ্যক ক্রেতার কাছে

আজকের দুনিয়ায় আরও বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছনোর একটি সহজ উপায় ওয়েবসাইট তৈরি ও অনলাইন উপস্থিতি। বেশি সংখ্যক ক্রেতার কাছে পৌঁছনোর পাশাপাশি এতে তৈরি হয় বিশ্বাসযোগ্যতাও।

আপনার কাজের বিভিন্ন নমুনা আপলোড করুন ওয়েবসাইটে, যা থেকে কাজ সম্পর্কে একটা প্রাথমিক ধারণা করতে পারা যায়। খুব সামান্য খরচেই তৈরি করা যায় ওয়েবসাইট, WordPress ব্লগ পাবলিশিং প্লাটফর্ম এর সহায়তায় I এছাড়া প্রয়োজনে প্রাথমিকভাবে বিনামূল্যে ব্লগ ও খুলতে পারেন blogger.com অথবা wordpress.com এ I

#৯ স্থানীয় বাজারকে জানুন

বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে আমাদের প্রায়শই প্রবণতা থাকে শুধুমাত্র অনলাইন প্রচারের মাধ্যমে ক্রেতার কাছে পৌঁছনোর। ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার ইত্যাদি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু ব্যবসার প্রাথমিক সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করে স্থানীয় বাজারের ওপর।

যেমন আপনি যদি বিয়ের ছবি তুলবেন সিদ্ধান্ত নেন তাহলে প্রথমেই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কাজ পাওয়ার আশা না করে বন্ধুবান্ধব, আত্মীয় পরিজন, চেনা পরিচিত মানুষের জন্য কাজ করুন। সেখানে ভাল কাজ করলে লোক মুখেই আপনার কাজের প্রচার হবে।

পাশাপাশি তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি আপলোড করলে তাঁদের পরিচিতদের মধ্যেও ছড়িয়ে যাবে সেই ছবি।

#১০ কর্মশালায় যোগ দিন   

কলকাতাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিয়মিত বিভিন্ন ফটোগ্রাফি কর্মশালা আয়োজিত হয়। প্রখ্যাত সব ফটোগ্রাফাররা সেই কর্মশালায় হাতে কলমে শিক্ষা দেন। আপনার কাজের ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ের কর্মশালা সম্পর্কে খোঁজ রাখুন ও সময় সুযোগ মতো অংশ নিন।

এতে অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা যেমন বাড়বে তেমনই বাড়বে যোগাযোগ। এই একই ক্ষেত্রে কাজ করা বহু মানুষের সঙ্গে পরিচয় হবে, তৈরি হবে যোগাযোগ মিলবে নতুন কাজের সুযোগ।

#১১ ফটোগ্রাফি-ক্লাবে যুক্ত হন

আমাদের শহরেই প্রচুর ফটোগ্রাফি ক্লাব রয়েছে। তার মধ্যে থেকে নিজের পছন্দ মতো এক বা একাধিক ক্লাবে যোগ দিতে পারেন। এতে একদিকে যেমন সমমনস্ক মানুষের সঙ্গে পরিচয় ঘটবে, বাড়বে শিক্ষার সুযোগ তেমনই তৈরি হবে নতুন যোগাযোগ। এই যোগযোগই আপনার ব্যবসা বাড়াতে সাহায্য করবে।

#১২ গ্রাহকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করুন

কোনও গ্রাহকের সঙ্গে একবার কাজ করলে তাঁর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন। পালা-পার্বণে শুভেচ্ছা বার্তা বা ছোট উপহার পাঠাতে পারেন।

হতেই পারে একজন গ্রাহকের সঙ্গে একবার কাজ করার পর হয়তো পরবর্তী এক-দুবছর তার কাছে আর কোনও কাজের সুযোগ নেই কিন্তু যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক থাকলে পরবর্তী কাজের সুযোগ এলে তিনি অবশ্যই আপনাকে যোগাযোগ করবে।

#১৩ নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি করুন

যেকোনও ব্যবসার মতোই ফটোগ্রাফির ব্যবসাতেও ব্র্যান্ড তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। ব্র্যান্ড তৈরি করতে মূলতঃ তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে-

  • আপনি কী ধরনের ছবি তুলতে চান,
  • আপনার গ্রাহক কারা এবং
  • অন্যদের থেকে আপনার পরিষেবা কোথায় আলাদা?

এই তিনটি প্রশ্নকে সামনে রেখে আপনার ব্র্যান্ড তৈরিতে মন দিন। প্রথম থেকেই ব্র্যান্ডের বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকলে কাজ করতে সুবিধা হবে। কোম্পানির নাম থেকে প্রচার পদ্ধতি সবকিছুই এর ওপর নির্ভর করবে।

অন্য যেকোনও ব্যবসার মতোই ফটোগ্রাফি ব্যবসাতেও প্রয়োজন দক্ষতা, সৃজনীশক্তি ও অধ্যবসায়। আর প্রয়োজন দূরদৃষ্টি। ব্যবসার শুরুতেই খুব বেশি লাভ নাও হতে পারে, নিয়মিত কাজ পাওয়াও সমস্যা হতে পারে কিন্তু ধৈর্য্য সহকারে সঠিক পথে এগোলে সাফল্য পাওয়া যাবে।

বর্তমানে এই ব্যবসায় কাজের সুযোগ অনেক বেড়েছে, সহজ হয়েছে ব্যবসা শুরু করা। আর তাই নিজের দক্ষতার ক্ষেত্রটিকে বেছে নিয়ে আজই শুরু করতে পারেন পরিকল্পনা।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *