শেল গ্যাস উত্তোলনে রাজ্যে লগ্নি ২০০ কোটি মার্কিন ডলার, কাজ শুরু আগামী বছর

শিল্পক্ষেত্রে ফের বড়সড় লগ্নি নিশ্চিত করল পশ্চিমবঙ্গ। এবার গ্রেট ইস্টার্ন এনার্জি কর্পোরেশন লিমিটেড (জিইইসিএল) জানাল পশ্চিমবঙ্গের রাণীগঞ্জ (দক্ষিণ)-ব্লকে সঞ্চিত শেল গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের জন্য আগামী দশ বছরে ২০০ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৪,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চায় এই সংস্থা। গত শুক্রবার সংস্থার পক্ষে একথা জানিয়েছেন জিইইসিএল এর প্রধান কর্মকর্তা প্রশান্ত মোদী।

উৎপন্ন হবে ১.৭ লক্ষ কোটি ঘটফুট গ্যাস, কাজ শুরু আগামী বছর

প্রশান্ত মোদী জানান, এই ব্লকে ৬.৬৩ লক্ষ কোটি ঘনফুট শেল গ্যাস সঞ্চিত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যার মধ্যে ১.৭ লক্ষ কোটি ঘনফুট ব্যবহারের জন্য উদ্ধার করা যেতে পারে।

শেল গ্যাস উত্তোলনের জন্য আগামী বছরের প্রথম অর্ধেই কুয়ো খোঁড়ার কাজ শুরু করবে জিইইসিএল। এই কুয়ো থেকে প্রাপ্ত গ্যাস বিশ্লেষণ করে তার নিরিখে পাইলট ভিত্তিতে আরও বেশ কিছু কুয়ো খোঁড়া হবে, যাতে সর্বোচ্চ ফলাফল পাওয়া যায়।

প্রশান্ত মোদী বলেন, “এরপর এই পাইলট ভিত্তিতে খোঁড়া কুয়োগুলো থেকে প্রাপ্ত গ্যাস বিশ্লেষণ করে এলাকায় শেল গ্যাস উত্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর বিকাশ ঘটানো হবে। এবং এই পুরো প্রকল্পটিতে খরচ হবে প্রায় ২ কোটি মার্কিন ডলার”।

বাড়বে সিবিএম উত্তোলনের পরিমাণও

শেল গ্যাস ছাড়াও এই ব্লকে ২.৬২ লক্ষ কোটি ঘনফুট কোল-বেড মিথেন (সিবিএম) বা ভূগর্ভস্থ কয়লাস্তরে নিমজ্জিত মিথেন গ্যাস সঞ্চিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রশান্ত মোদী, যার ‘আনডিসকাউন্টেড’ মূল্য প্রায় ১,৩৭৮ কোটি মার্কিন মূদ্রা, ‘ডিসকাউন্টেড’ মূল্য আনুমানিক ৪.৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বর্তমানে ১৫৬টি কুয়ো থেকে ০.৫৫ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড ঘনমিটার কোল গ্যাস বা সিবিএম উৎপন্ন করে জিইসিএল। আগামী ৭-৮ বছরের মধ্যে তা বাড়িয়ে ৩০০টি কুয়ো থেকে মোট ২.৫ মিলিয়ন মেট্রিক স্ট্যান্ডার্ড ঘনমিটার কোল গ্যাস উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রশান্ত মোদী।

সিবিএম বা সাধারণভাবে কোল গ্যাস বলে পরিচিত গ্যাস হল ভূগর্ভস্থ কয়লাস্তরে নিমজ্জিত প্রাকৃতিক গ্যাস। অন্যদিকে, শেল গ্যাস নিমজ্জিত থাকে পাললিক শিলার গঠনস্তরে। পেট্রলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস উভয়েই পাওয়া যায় পাললিক শিলার গঠনস্তরে।

সম্প্রতিই, ইতিমধ্যে থাকা কোল বেড মিথেন চুক্তিগুলির আওতায়ই শেল গ্যাস সহ অন্যান্য সবধরণের হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান ও উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছে সরকার। তারপরই কোলবেড মিথেন উত্পাদক সংস্থাগুলির সামনে নিজেদের ব্যবসা প্রসারের একটা বড় সুযোগ আসে।

পাইপলাইনের মাধ্যমে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় গ্যাস নিয়ে আসার পরিকল্পনা

প্রশান্ত মোদী জানিয়েছেন, গ্যাস ট্রান্সমিশন চুক্তি বা গ্যাস অফটেক চুক্তি করার বিষয়ে গেল ইন্ডিয়া (Gail India) এর সঙ্গে প্রাথমিক বোঝাপড়ায় পৌঁছিয়েছে গ্রেট ইস্টার্ন এনার্জি কর্পোরেশন লিমিটেড যাতে জগদীশপুর-হলদিয়া এবং বোকারো-ধামরা পাইপলাইনের মাধ্যমে কলকাতা ও তত্সংলগ্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হয়। আশা করা হচ্ছে ২০২০ সালের শুরুতেই এই পাইপলাইনগুলি কার্যকরী হয়ে যাবে।

মোদী বলেন, সংস্থার জন্য এটা খুবই উদ্দীপনাময় এক সময়। সিবিএম ব্যবসার প্রসারের পাশাপাশিই শেল গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন শুরু করার জন্য আগ্রহভরে অপেক্ষা করছে গ্রেট ইস্টার্ন এনার্জি কর্পোরেশন লিমিটেড।

প্রসঙ্গত, এর আগেই শেল গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য রাণীগঞ্জে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থাত্ প্রায় ৭,০০০ কোটি ভারতীয় মূদ্রা বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে এসার অয়েল অ্যান্ড গ্যাস। তাই আশা করা হচ্ছে, আগামী দিনে এই অঞ্চলে শুধুমাত্র শেল গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন ক্ষেত্রেই এক বিরাট সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে চলেছে। বাড়তে চলেছে পরোক্ষ কাজের সুযোগও।

তথ্যসূত্র- ইকোনমিক টাইমস্

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *