বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পেটিএম, ফ্লিপকার্ট, সুইগি ও জোম্যাটো

বিনিয়োগের জোয়ারেও ঠেকানো যাচ্ছে না আর্থিক ক্ষতি, ফের বড় ধাক্কার মুখে ভারতের ই-কমার্স। বিজনেস্ রিসার্চ প্ল্যাটফর্ম টফলারের তথ্য অনুযায়ী গত মার্চে শেষ হওয়া আর্থিক বছরে ভারতের সবচেয়ে প্রচলিত পাঁচটি ই-কমার্স কোম্পানির মোট ক্ষতি হয়েছে ১.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ প্রায় ৭,৮০০ কোটি টাকা।

বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়া এই কোম্পানিগুলির মধ্যে রয়েছে পেটিএম, ফ্লিপকার্ট, মেকমাইট্রিপইন্ডিয়া, সুইগি এবং জোম্যাটো। এরমধ্যে শুধুমাত্র পেটিএম-এর ক্ষতির পরিমাণ ৩,৩৯৩ কোটি টাকা। ফ্লিপকার্টের লোকসান হয়েছে ৩,২২২ কোটি।

ছাড় সর্বস্বতাই ক্ষতির কারণ-মত বিশেষজ্ঞদের

ভারতের ক্রমবর্ধমান বাজার আর সেই বাজার ধরার জন্য প্রবল প্রতিযোগিতা, এর ফলেই বারবার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে ভারতীয় ই-কমার্সগুলিকে, এমনই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। গত একদশক ধরে ভারতের ই-কমার্স সেক্টরে বিনিয়োগ করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা, রয়েছে প্রবল প্রতিযোগিতা।

বাজার ধরতে মরিয়া প্রতিটি কোম্পানিই, আর তার জন্য সকলেরই অস্ত্র কেনাকাটায় বড় অঙ্কের ছাড়। একে অন্যকে টক্কর দিতে বাড়িয়েই চলেছে ছাড়ের পরিমাণ। বছরের নির্দিষ্ট কিছু দিনে ছাড়ের পরিমাণ ছাড়ায় রেকর্ডমাত্রা।

আরো পড়ুন :  সুখবর! ছোট-মাঝারি শিল্পে ঋণ পাওয়ার রাস্তা আরও সহজ করলো কেন্দ্র

বাজার ধরার এই আগ্রাসী নীতিই চলবে আরও বেশ কিছু দিন

স্টার্টআপ বিশেষজ্ঞ হরিশ এইচভি কোয়ার্টজকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে জানিয়েছেন, আগামী কয়েকবছর এই ধারা অব্যাহত থাকবে। যতদিন বাজারের বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকবে ও সেই বাজার ধরার প্রতিযোগিতা থাকবে এবং পাশাপাশিই কোম্পানিগুলোতে মোটা টাকা বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক বিনিয়োগকারীরা থাকবে ততদিন এই ধারাই চলবে।

ভারতের স্টার্টআপগুলির সামনে এই মুহূর্তে একটাই লক্ষ্য, বাজার বাড়ানো আর সেই লক্ষ্যে কাজ করতে গিয়ে লোকসানের তোয়াক্কা করেনা এই কোম্পানিগুলি। গত দুবছরে বিনিয়োগে খানিক ঘাটতি ঘটায় লাভ বাড়ানোর জন্য চাপ তৈরি হচ্ছিল কোম্পানিগুলোর ওপর।

এখন সেই খরা কেটেছে, তাই আবার মুখ্য হয়ে উঠেছে বাজার ধরা ও প্রতিযোগী কোম্পানিকে টেক্কা দেওয়া। নতুন করে বিনিয়োগ আসছে চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে, আর কে বেশি জিনিস বিক্রি করল, কে বেশি ট্রিপ করল বা কে সব থেকে বেশি খাবার অর্ডার সরবরাহ করল কোম্পানিগুলির কাছে সেটাই এখন বড় কথা।  

প্রসঙ্গত, এবছরই ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময় ফ্লিপকার্টের ৭৭ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়েছে আমেরিকার রিটেল মার্কেটের অন্যতম সবথেকে বড় কোম্পানি ওয়ালমার্ট। বিশেষজ্ঞদের মতে অন্য মার্কিন অনলাইন কোম্পানি অ্যামাজনকে টক্কর দিতে গিয়েই বারবার ক্ষতির মুখে পড়ছে ফ্লিপকার্ট।

২০১৮ মার্চ অবধি পাওয়া হিসেবে অবশ্য ওয়ালমার্টের হাত নেই তবে মনে করা হচ্ছে ভারতের বাজার ধরতে আগ্রাসী নীতিই নেবে ওয়ালমার্ট। এবছরের দিওয়ালিতেই বিশাল অঙ্কের ছাড় দিয়েছে ফ্লিপকার্ট। আগামী অন্তত ২০২০ অবধি ফ্লিপকার্ট এই নীতিতেই চলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বেশ কয়েকবছর হয়ে গেল ভারতে ব্যবসা করছে এই কোম্পানিগুলি, তৈরি হয়েছে বাজারও। কিন্তু এখনও ক্ষতির পরিমাণ কমাতে পারছে না এই স্টার্টআপগুলি। বরং প্রায় প্রত্যেকেই বাড়িয়ে চলেছে ছাড় ও আগ্রাসী বিজ্ঞাপন নীতি। তবে যতদিন বাজার বাড়ছে আর বিনিয়োগ আসছে ততদিন পর্যন্ত খুব আশঙ্কার কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা।   

তথ্যসূত্রঃ কোয়ার্টজ

 

About The Author

One Response

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *