রাজারহাট নিউটাউন সিলিকন ভ্যালির জন্য বরাদ্দ আরও ১০০ একর জমি, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

সিলিকন ভ্যালিতে আরও ১০০ একর জমি জুড়তে চলেছে রাজ্য সরকার, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার নিজের অফিসিয়াল ট্যুইটার ও ফেসবুক পেজ-এর পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আইটি কোম্পানিগুলির প্রতিক্রিয়ায় উত্সাহিত হয়ে রাজারহাট নিউটাউনের সিলিকন ভ্যালি হাবে আরও ১০০ একর জমি জুড়ে এলাকাকে দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার।

এর আগে শুক্রবারই অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র ঘোষণা করেছিলেন, চারটি বৃহত্ আইটি কোম্পানি, রিলায়েন্স জিও, টিসিএস, কেপ জেমিনি ও ফার্স্টসোর্স সলিউশন সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজারহাট নিউটাউনের সিলিকন ভ্যালি হাবে তাদের ইউনিট খুলতে চেয়েছে। তিনি জানান, রিলায়েন্স জিও চেয়েছে ৪০ একর, টিসিএস ২০ একর, কেপজেমিনি ১০ একর ও ফার্স্ট সোর্স চার একর জমি।

শুক্রবার টাইকন (TiECon)এর একটি সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা জানান অমিত মিত্র। পাশাপাশিই তিনি ইঙ্গিত দেন এই হাবের জন্য জমির পরিমান বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার।

শনিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে সেই কথাই ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, প্রস্তাবিত ৪০ একর জমিতে তথ্যপ্রযুক্তি সক্রিয় টেলিকম, বিগ ডেটা অ্যানালিসিস ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টালিজেন্স এর জন্য স্টেট-অফ-দ্য-আর্ট-সেন্টার করতে চায় রিলায়েন্স জিও। টিসিএস-এর ২০ একর জমিতে আরও ১৫,০০০ তথ্য প্রযুক্তি কর্মীর কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের কেপজেমিনি কলকাতায় অত্যাধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবসা গড়ে তোলার জন্য চেয়েছে ১০ একর, আর ফার্স্টসোর্স এর সঞ্জীব গোয়েঙ্কা প্রস্তাবিত ৪ একর জমিতে তৈরি কেন্দ্র থেকে তাঁদের সংস্থার গ্লোবাল অপারেশন চালাতে চান বলেও জানিয়েছেন মমতা। তিনি আরও জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জেনপ্যাক্ট অফ জিই, সম্প্রসারণের জন্য ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে।

রাজারহাট নিউটাউন সিলিকন ভ্যালির জন্য বরাদ্দ আরও ১০০ একর জমি, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

অমিত মিত্র জানিয়েছেন, এই কোম্পানিগুলি ছাড়াও অন্যান্য তথ্য প্রযুক্তি সংস্থাও জমির জন্য আবেদন জানাতে উত্সাহী, সব আবেদন খতিয়ে দেখে নিয়মানুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, যেকোনও ইন্ড্রাস্ট্রি পার্কে যেভাবে সরকারি জমি দেওয়া হয়, এক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে।

বহু মানুষের কর্ম সংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া তথ্য প্রযুক্তি শিল্পের প্রসারের জন্য বাজার দরের থেকে কম দামে জমি দেওয়া হবে আইটি কোম্পানিগুলিকে। পাশাপাশিই সরকারের আয় যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় নজর রাখা হবে সেদিকেও।  অমিত মিত্র জানান, ২০১১ সালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ রাজ্যে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের বৃদ্ধি হয়েছে ৭৯ শতাংশ ও কর্ম সংস্থান বেড়েছে ৬৭ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, গত অগস্ট মাসে, রাজার হাটে এই সিলিকন ভ্যালি হাবের শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তখনই তিনি জানিয়েছিলেন তাঁর স্বপ্ন আমেরিকার পর কেউ যদি দ্বিতীয় কোনও সিলিকন ভ্যালির কথা বলে, সেটা যেন হয় পশ্চিমবঙ্গ। তাঁর এই স্বপ্ন সফল করতে সরকার তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পকে সবরকম সাহায্য করতে তৈরি।

ফিচার্ড ইমেজ ক্রেডিট: মমতা ব্যানার্জী, টুইটার একাউন্ট

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *