রাজ্যের সিমেন্ট শিল্পে আসতে চলেছে ৩ হাজার কোটির লগ্নি

আগামী কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশের সব থেকে বড় কয়েকটি সিমেন্ট উত্পাদক সংস্থা- জেএসডব্লিউ সিমেন্ট, স্টার সিমেন্ট ও ডালমিয়া সিমেন্ট। উত্পাদন বাড়বে ৭ মিলিয়ন টন। শুক্রবার একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা জানান রাজ্যের শিল্পবাণিজ্য ও অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র।  

বণিকসভা ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স আয়োজিত সিমেন্টিং ইন্ডিয়া শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত মিত্র বলেন, নিজেদের বর্তমান কারখানগুলিই সম্প্রসারণ করতে চায় জেএসডব্লিউ সিমেন্ট ও ডালমিয়া সিমেন্ট অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে সম্পূর্ণ নতুন একটি গ্রিনফিল্ড ইউনিট তৈরি করতে চলেছে স্টার সিমেন্ট।  তিনি বলেন,

২০১১-১২ সালে এরাজ্যে সিমেন্ট উত্পাদক প্লান্টের মোট সংখ্যা ছিল পাঁচ, বর্তমানে সংখ্যাটা ১৬।

আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এই সংখ্যাটা আরও অনেকটাই বাড়বে বলে আশা সরকারের।

উত্পাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা জেএসডব্লিউ সিমেন্টের

জেএসডব্লিউ-এর বর্তমান কারখানাটি অবস্থিত পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে। কারখানার বর্তমান উত্পাদন ক্ষমতা ২.৪ মিলিয়ন টন বা ২৪ লক্ষ টন প্রতি বছর। জানা যাচ্ছে আগমী ২-৩ বছরের মধ্যে এই কারখানার উত্পাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে জেএসডব্লিউ কর্তৃপক্ষ। বিনিয়োগ করবে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।

আরো পড়ুন:  শিল্পের জন্য জমিতে ছাড় ঘোষণা রাজ্যের, বেশি কিনলে বাড়বে ছাড়ের অঙ্ক

জলপাইগুড়িতে নতুন কারখানা স্থাপন স্টার সিমেন্টের

উত্তর-পূর্ব ভারতের অগ্রণী সিমেন্ট উত্পাদক সংস্থা স্টার সিমেন্ট। বর্তমান উত্পাদন ক্ষমতা ৩.৫ মিলিয়ন টন প্রতি বছর। জলপাইগুড়িতে ২ মিলিয়ন টন উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সিমেন্ট কারখানা তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে এই সংস্থা। এর জন্য ৪০০ কোটি টাকা লগ্নি করবে স্টার সিমেন্ট।

শুক্রবারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্টার সিমেন্টের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সঞ্জয় আগরওয়াল জানান, ইতিমধ্যেই প্রস্তাবিত কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় জমি কিনেছে এই সংস্থা। মেঘালয় থেকে নিয়ে আসা হবে কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় ক্লিংকার।

সঞ্জয়বাবু আরও জানান, ২০২০ এর মার্চের মধ্যেই শুরু হয়ে যাবে এই কারখানার উত্পাদন এবং ভবিষ্যতে কারখানাটির উত্পাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে করা হবে ১০ মিলিয়ন টন প্রতি বছর।

এরাজ্যের বর্তমান সিমেন্ট উত্পাদন ক্ষমতা ২২ মিলিয়ন টন প্রতি বছর, চাহিদা বাড়ছে বছর প্রতি ১৮ শতাংশ হারে। সঞ্জয় বাবুর হিসেব অনুযায়ী, এরাজ্যে সিমেন্টের চাহিদা প্রতি মাসে ১.৬-১.৭ মিলিয়ন টন।

আরো পড়ুন:  সুখবর! ছোট-মাঝারি শিল্পে ঋণ পাওয়ার রাস্তা আরও সহজ করলো কেন্দ্র

ডালমিয়া ভারতের শালবনির কারখানা সম্প্রসারণ, উত্তরবঙ্গে কারখানা খোলার ভাবনা

ডালমিয়া ভারতের কারখানাটি অবস্থিত শালবনির গোদাপিয়াশালে। এই শিল্পতালুকে প্রায় ১৫৫ একর জমি নিয়ে গড়ে উঠেছে এই প্রকল্প। ২০১৪ সালের জুলাই মাসে কারখানাটি উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কারখানাটির প্রথম ইউনিটটি তৈরি করতে ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল ডালমিয়া গ্রুপ অফ কোম্পানিস্। বর্তমানে এই ইউনিটে কাজ করেন প্রায় ৬০০ শ্রমিক। পরোক্ষভাবে কর্ম সংস্থান হয়েছে আরও প্রায় ৪০০ জনের।

বর্তমানে কারখানার উত্পাদন ক্ষমতা ১.৭৫ মিলিয়ন টন। শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় ইউনিট তৈরির কাজ। এই ইউনিটটি তৈরি হলে এটি রাজ্যের বৃহত্তম সিমেন্ট কারখানা হয়ে উঠবে বলে দাবি সংস্থা কর্তৃপক্ষের। এই ইউনিটটি গড়ে তুলতে খরচ হবে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।

২০২১ এর মধ্যে এই কারখানার মোট উত্পাদন দাঁড়াবে ৪ মিলিয়ন টন প্রতি বছর। ডালমিয়া সিমেন্টের নতুন এই ইউনিটটিতে প্রতক্ষ্যভাবে কাজের সুযোগ পাবেন ১০০ থেকে ১৫০ জন অতিরিক্ত কর্মী। এছাড়াও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান ঘটবে আরও ৩০০ জনের।

গোদাপিয়াশালের কারখানার সম্প্রসারণের পাশাপাশিই উত্তরবঙ্গেও নতুন একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করতে আগ্রহী ডালমিয়া সিমেন্ট। কোম্পানির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (নিউ বিল্ডিং সলিউশন) সুজিত ঘোষ বলেন, ‘উত্তরবঙ্গে বর্তমানে বিরাট কর্মযজ্ঞ চলছে, ওই এলাকায় প্রভূত সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই গোদাপিয়াশালের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও নতুন প্রকল্প শুরু করার বিষয়ে ভাবনা চিন্তা করছে ডালমিয়া সিমেন্ট’।

শুক্রবারের বণিকসভার এই অনুষ্ঠানে শিল্পবাণিজ্য ও অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র এ রাজ্যের সিমেন্ট উত্পাদক সংস্থাগুলিকে ক্লিংকার প্ল্যান্টসহ সুসংহত সিমেন্ট কারখান গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন বর্তমানে এরাজ্যের কারখানাগুলি সবকটিই গ্রাইন্ডিং প্ল্যান্ট। প্রয়োজন সুসংহত সিমেন্ট কারখানা গড়ে তোলা। তাঁর মতে, এধরণের কারখানা গড়ে তুলতে প্রয়োজন আড়াই হাজার কোটি টাকা।

প্রসঙ্গতঃ ক্রাইসিলের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে পূর্ব ভারতে (উত্তর-পূর্ব ভারত সহ) সিমেন্টের মোট চাহিদা ছিল ২৯৬ মিলিয়ন টন, গোটা ভারতের চাহিদার ২২ শতাংশ। যা গত বছরের থেকে পাঁচ শতাংশ বেশি।

তথ্যসূত্র : টাইমস অফ ইন্ডিয়া 

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *